আমেরিকা যে প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনকারী তা আবার  প্রমাণিত হলো

পাশ্চাত্যের সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন শুরুর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলো গত এক বছরে পরমাণু সমঝোতার বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করার জন্য সব ধ

আমেরিকা যে প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনকারী তা আবার  প্রমাণিত হলো

পাশ্চাত্যের সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন শুরুর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলো গত এক বছরে পরমাণু সমঝোতার বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু এসব বাধা অতিক্রম করে সমঝোতাটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করে গেছে তেহরান।

পরমাণু সমঝোতার মূল প্রতিপাদ্য ছিল দু’টি। এক, ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু তৎপরতা চালানোর অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। দুই, ইরানের ওপর থেকে সব আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং পরমাণু বোমা তৈরির অভিযোগ প্রত্যাহার করা।  ইরান যে কোনোদিন পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা করেনি এই সমঝোতার মাধ্যমে সে বিষয়টিকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে এ সমঝোতায় ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি বহাল থেকেছে। দেশটি বর্তমানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ সব ধরনের বেসামরিক পরমাণু তৎপরতা চালানোর অধিকার রাখে। অবশ্য সমঝোতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ গড়ে তোলার ওপর কিছুটা সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।

তবে গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইরানের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যে জটিল পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল তা গত এক বছরে অনেকাংশে কেটে গেছে।  তেহরানের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা উঠে না গেলেও পরিস্থিতি অনেকাংশে সহনীয় হয়েছে।

মার্কিন সরকার ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো স্থগিত রেখেছে। কিন্তু ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং দেশটির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন বা সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের অজুহাতে যেসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল তা এখনো চালু রেখেছে ওয়াশিংটন।

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেন করতে আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর ওপর মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তা এখনো বহাল রাখা হয়েছে।  এ ছাড়া, মার্কিন সিনেট গত মাসে ইরান বিরোধী একটি নিষেধাজ্ঞা ১০ বছরের জন্য নবায়ন করেছে। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে মার্কিন সরকার প্রকাশ্যে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে।

ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি এ সম্পর্কে বলেন, তার দেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি।  ইরানের পরমাণু সমঝোতা একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি হলেও তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে মার্কিন সরকার।

পরমাণু সমঝোতায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এ সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী দেশগুলো এই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যে, তারা ইরানের অর্থনৈতিক তৎপরতা বিশেষ করে দেশটির তেল ও গ্যাস খাতে বিদেশি পুঁজি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে সচেষ্ট হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেকরা বলছেন, পাশ্চাত্যের সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু স মঝোতা একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং এর সঙ্গে অনেকগুলো দেশ সরাসরি জড়িত।  আরাকচি যেমনটি বলেছেন, ইরান পরমাণু সমঝোতা নিয়ে কারো সঙ্গে কোনো আলোচনা করবে না করণ, দেশটি পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চলেছে। কিন্তু তারপরেও মনে হচ্ছে ইরান যতদিন একটি স্বাধীনচেতা দেশ হিসেবে আইনসম্মত উপায়ে নিজের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট থাকবে ততদিন ওয়াশিংটনের এ শত্রুতা শেষ হবে না।

 

নতুন কমেন্ট যুক্ত করুন