জিলক্বদ মাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি
জিলক্বদ মাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি
এস, এ, এ
১লা জিলকদ:
হজরত ফাতেমা মাসুমা (সা.আ.)এর জন্মদিবস:
সন ১৭৩ হিজরি উক্ত তারিখে হজরত ফাতেমা মাসুমা (সা.আ.) মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন ইমাম মূসা কাযিম (আ.) এবং ইমাম রেযা (আ.) এর তাঁর ভাই। (তাবাকাতে ইবনে সাআদ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫১)
আশআশ বিন কাইসের মৃত্যুদিবস:
সন ৪০ হিজরিতে আশআশ বিন কাইস মারা যায়। ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেন যে, আশআশ বিন কাইস ইমাম আলি (আ.)কে শহিদ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছিল। তার মেয়ে জোওদা বিন আশআশ ইমাম হাসান (আ.)কে বিষ দানের মাধ্যমে শহিদ করে এবং তার ছেলে কারবালাতে ইমাম হুসাইন (আ.)এর বিরূদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
আশআশ ১০ হিজরিতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এবং রাসুল (সা.) এর ওফাতের পরে মুরতাদ হয়ে যায়। পরে হজরত আবু বকর তাকে বন্দি করে এবং তার অন্ধ বোনের সাথে তার বিবাহ দেয়। অতঃপর জোওদা এবং মোহাম্মাদ নামের দুটি সন্তান জন্মগ্রহণ করে। তারা উভয়ে বেহেস্তের দুই সর্দারকে শহিদ করে। (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪২, পৃষ্ঠা ২২৮)
১১ই জিলকদ:
ইমাম রেযা (আ.)এর জন্মদিবস:
সন ১৪৮ হিজরি রোজ বৃহঃস্পতিবার ইমাম রেযা (আ.) মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ইমাম কাযিম (আ.) এবং মাতার নাম নাজমা খাতুন। তিনি রেযা নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন এবং তাঁর উপনাম ছিল আবুল হাসান।(এলামুল ওয়ারা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৪০)
১২ই জিলকদ
ইমাম হুসাইন (আ.)এর উদ্দেশ্যে হজরত মুসলিম (আ.)এর পত্র:
সন ৬০ হিজরি হজরত মুসলিম ইবনে আকিল (আ.)তাঁর মৃত্যুর ২৭ দিন পূর্বে ইমাম হুসাইন (আ.)কে পত্র প্রেরণ করেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রায় ১৮ হাজার কুফাবাসি আমার কাছে বাইয়াত করেছে। কিন্তু ইবনে যিয়াদের কুটিল ষড়যন্ত্রের কারণে কুফাবাসিরা তাঁকে একলা রেখে দূরে সরে যায়। আর এ সুযোগে ইবনে যিয়াদ তাঁকে মিথ্যা ওয়াদা প্রদানের মাধ্যমে তাঁকে আটক এবং হত্যা করে। (নাফসুল মাহমুম, পৃষ্ঠা ৮৪)
২৩শে জিলকদ:
ইমাম রেযা (আ.)এর শাহাদত দিবস:
এক বর্ণনা অনুযায়ি ইমাম রেযা (আ.) ২০৩ হিজরির উক্ত দিনে শাহাদত বরণ করেন। (মাশারুশ শিয়া, পৃষ্ঠা ১৬)
বণি কুরাইযার যু্দ্ধ:
সন ৪ হিজরি বণি কুরাইযার যু্দ্ধ সংঘটিত হয়। উক্ত যুদ্ধে মুসলমান সৈন্যদের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার। উক্ত যুদ্ধে শুধুমাত্র খাল্লাদ বিন সাওয়িদ শাহাদত বরণ করেন। অপরপক্ষে কাফেরদের সংখ্যা ছিল ৯০০ জন এবং তারা সকলেই মারা যায়। অন্য এক মত অনুযায়ি উক্ত যুদ্ধটি শাওয়াল মাসে অনুষ্ঠিত হয়। (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ১৯, পৃষ্ঠা ১৭০)
২৫শে জিলক্দ
মার্ভ অভিমুখে ইমাম রেযা (আ.) এর যাত্রা:
সন ২০০ হিজরির উক্ত দিনে ইমাম রেযা (আ.) মদিনা থেকে মার্ভ অভিমুখে যাত্রা করেন। মামুন ‘রাজা বিন আবি যাহহাক’কে আহওয়াযের পথ দিয়ে ইমাম রেযা (আ.)কে নিয়ে আসার নির্দেশ দেয়। ইমাম রেযা (আ.) যাত্রার পূর্বে তাঁর পরিবার পরিজনদেরকে একত্রিত করেন এবং তাদেরকে বলেন: তোমরা আমার জন্য ক্রন্দন কর কেননা আমি আর মদিনায় ফিরে আসবো না এবং পরবাসে আমাকে শহিদ করা হবে। (উয়ুনে আখবারে রেযা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২৩৫)
২৬শে জিলকদ:
বিদায় হজের উদ্দেশ্যে রাসুল (সা.)এর শেষ যাত্রা:
সন ১০ হিজরি বিদায় হজের উদ্দেশ্যে রাসুল (সা.)এর শেষ যাত্রা করেন। রাসুল (সা.) এর উক্ত যাত্রা সম্পর্কে এছাড়াও ২৬শে জিলকদ সহ অন্যান্য মতামতও বর্ণিত হয়েছে। উক্ত সফরে হজরত ফাতেমা যাহরা (সা.আ.) উম্মুল মুমিনিন হজরত উম্মে সালামা, আসমা, হাফসা এবং আয়েশা প্রমূখ অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া শুধুমাত্র মদিনা থেকে এক লক্ষ চব্বিশ হাজার লোকজন উক্ত সফরে অংশগ্রহণ করেছিল। (আল গাদির, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৯)
জিলকদ মাসের শেষ তারিখ:
ইমাম মোহাম্মাদ তাকি (আ.)এর শাহাদত:
মুমিনদের ৯ম ইমাম মোহাম্মাদ তাকি (আ.) ২২০ হিজরিতে আব্বাসিয় খলিফা মোতাসিমের বিষ দানের কারণে শাহাদত বরণ করেন। শাহাদতকালে তাঁর বয়স ছিল ২৫ বছর ৩ মাস ও ১২ দিন। এছাড়াও তার শাহাদত সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত বর্ণিত হয়েছে যেমন: ৫ই জিলকদ, ১১ই জিলকদ, ২১৯ হিজরি ৫ই জিলহজ, ৬ই জিলহজ, ২৫ জিলহজ উল্লেখযোগ্য। (আল ইরশাদ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২৯৫)
হুদাইবিয়ার সন্ধি:
সন ৬ হিজরিতে হুদাইবিয়ার সন্ধি সংঘটিত হয়। রাসুল (সা.) উমরা হজের জন্য মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাসুল (সা.) এর সাথে প্রায় এক হাজার দুই শত বিশ জন উক্ত সফরে অংশগ্রহণ করেন এবং কুরবানির জন্য ৭০টি উট সাথে নেন। তারা সাজারা নামক মসজিদে এহরাম বাঁধেন এবং মক্কার হুদাইবিয়া নামক স্থানে একত্রিত হন। সেখানে একটি কূপ ছিল যার পানি ছিল না কিন্তু যখন রাসুল (সা.) এর সেখানে অবস্থানের কারণে কুপের পানি এতই বেশে হয়ে যায় যে পানি উপচে পড়তে থাকে। কিন্তু সে বছর মক্কার মুশরিকরা হজ করতে বাধা দেয় এবং একটি সন্ধির রূপ লাভ করে যার নাম রাখা হয় হুদাইবিয়ার সন্ধি। (আল ইস্তিয়াব, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৯১৭)
নতুন কমেন্ট যুক্ত করুন