পাকিস্তানি ‘জঙ্গি’র সঙ্গে গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতাও
জঙ্গি সন্দেহে চট্টগ্রামে পাকিস্তানি নাগরিকসহ যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার মধ্যে একজন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির আওয়ামী লীগ নেতা।
রোববার সকালে বন্দর নগরীর একটি হোটেল থেকে পাকিস্তানি নাগরিক মোহাম্মদ আলমের সঙ্গে গ্রেপ্তার মো. শফিউল্লাহ গত উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছিলেন।
গ্রেপ্তার এই পাঁচজন রোহিঙ্গা সলিডারিটি অরগানাইজেশন (আরএসও) এর সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশের ধারণা, এই সংগঠনটির সঙ্গে রোহিঙ্গা জঙ্গিদের যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে।
আওয়ামী লীগ নেতা শফিউল্লাহর দলীয় এক সহকর্মী অবশ্য দাবি করেছেন, জমি বিক্রি নিয়ে আলোচনা করতেই ওই হোটেলে গিয়েছিলেন শফিউল্লাহ।
তবে গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, কক্সবাজার ও নাইক্ষ্যংছড়িতে রোহিঙ্গা জঙ্গিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি মাথায় রেখেই শফিউল্লাহসহ পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তারা।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান বিস্ফোরণের ঘটনায় হায়দ্রাবাদ থেকে আরএসও সদস্য খালিদ ওরফে খালিদ মোহাম্মদ নামের এক যুবককে গ্রেপ্তারের পর এই সংগঠনটির জঙ্গিসম্পৃক্ততার বিষয়টি ওঠে আসে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের অনুসন্ধানে আরএসওর সঙ্গে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরের বাসিন্দা শফিউল্লাহর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
তার এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শফিউল্লাহর (৩৮) বাবা ছালেহ আহমদ একসময় আরএসও’র সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। নাইক্ষ্যংছড়ির প্রভাবশালী এই পরিবারের সঙ্গে মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক শফিউল্লাহ রোহিঙ্গা জঙ্গিদের ‘প্রশ্রয়দাতা’ বলে পরিচিত আরএসও’র একটি পক্ষের হয়ে কাজ করেন বলেও দাবি করেন স্থানীয় কয়েকজন।
নাইক্ষ্যংছড়ি হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাস করা শফিউল্লাহ ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও স্থানীয়রা জানায়। চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি পাসের পর তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হলেও পরে আর পড়েননি।
পরে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট কলেজ থেকে ডিগ্রি পাসের পর ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতি বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন শফিউল্লাহ।
নাইক্ষ্যংছড়ির হাজী এম এ কালাম ডিগ্রি কলেজে রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগে অবৈতনিক শিক্ষক হিসেবে বর্তমানে কাজ করছেন তিনি।
শফিউল্লাহ নাইক্ষ্যংছড়ির দুটি স্কুল ও একটি মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বলেও জানান স্থানীয় সাংবাদিকরা।
স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সাত-আট বছর আগেও শফিউল্লাহ আওয়ামী লীগে সম্পৃক্ত ছিলেন না।
“২০০৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তার বোনজামাইকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে আওয়ামী লীগে আসেন তিনি।”
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাসলিম ইকবাল দাবি করেন, তার কমিটির মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক শফিউল্লাহ কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তিনি কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নন। জায়গা-জমি বিক্রি বিষয়ে আলাপ করতেই তিনি চট্টগ্রাম শহরে গিয়েছিলেন।”
গত ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থনে আনারস প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরেছিলেন শফিউল্লাহ।
ওই নির্বাচনে শফিউল্লাহকে ৪ হাজার ভোটে হারিয়ে জয়ী হন ১৯ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী তোফাইল আহমেদ।
নতুন কমেন্ট যুক্ত করুন