আইএসের ভিডিওতে বিদেশি যোদ্ধাদের প্রদর্শন

আইএসের ভিডিওতে বিদেশি যোদ্ধাদের প্রদর্শন

ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাদের প্রতি আকৃষ্ট বিদেশি যোদ্ধাদের আগমন স্রোতের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রচারণা শুরু করেছে। সন্ত্রাসবিরোধী  গবেষকরা বলছেন যে, এ প্রচারণা তাদেরকে বৈশ্বিক জিহাদের নতুন অগ্রসেনা হিসেবে তুলে ধরতে সাহায্য করছে। খবর : দি গার্ডিয়ান।
রোববার প্রচারিত তাদের ভিডিও’তে দেখা যায়, বিদেশি চেহারার যোদ্ধারা সামরিক পোশাক পরিহিত অবস্থায় দল বেঁধে এগিয়ে চলেছে। আগের অন্যান্য ভিডিও’র মতো এটিতে তাদের চেহারা ঢাকার কোনো চেষ্টা করা হয়নি। ক্যামেরা তাদের মুখের ওপর ধরে রাখা হয়েছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, তাদের কয়েকজন ব্রিটেন, ফ্রান্স বা ইউরোপের আর কোনো দেশ থেকে এসেছে। এদের মধ্যে লম্বা চুলের ২২ বছরের একজনকে ফ্রান্সের নর্মান্ডির ম্যাক্সিম হশার্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। 
ভিডিও’র বিদেশিদের মধ্যে একজনকে ব্রিটেনের কার্ডিফের মেডিকেল ছাত্র ২০ বছর বয়স্ক নাসির মুছানা বলে দাবি করার পর ব্রিটিশ পুলিশ তা তদন্ত করে দেখছে। এর আগেও তাকে আইএসের ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল। 
মার্কিন সাংবাদিক জেমস ফলিকে হত্যার ভিডিও প্রচারের সময় বিদেশি যোদ্ধাদের ওপর আইএসের গুরুত্ব আরোপের প্রথম প্রবণতা দেখা যায়। সে ভিডিওতে মুখোশ পরিহিত ইংরেজদের উচ্চারণে ইংরেজি বলা এক ব্যক্তিকে জেমস ফলির হত্যার কথা ঘোষণা করতে দেখা যায়। মুখোশধারী ব্যক্তিকে মিডিয়ায় জিহাদি জন বলে আখ্যায়িত করা হয়। তখন থেকে আইএসের ভিডিওতে পশ্চিমা, বিদেশি ও বিশেষ করে ইংরেজি জানা বিদেশিকে দেখা গেছে। 
বিশ্লেষকরা বলেন, এর উদ্দেশ্য হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে হুমকি প্রদর্শন এবং জিহাদি সংগঠনের বৈধতার দাবিকে এগিয়ে নেয়া। ১৬ মিনিট দৈর্ঘ্যরে এ ভিডিওতে গত দশকে আইএসের উত্থান, তাদের সামরিক বিজয় ও সহিংসতার কৌশলকে তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, যুদ্ধে সাম্প্রতিক বিপর্যয় তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ তারা মনে করে যে, তাদের হাতে প্রচুর সময় আছে।
সিআইএ’র সন্ত্রাস দমন বিশ্লেষক আকি পেরিটজ বলেন, তারা এটা দেখাতে চায় যে, তারা হচ্ছে বৈধ সংগঠন যারা এক দশক ধরে লড়াই করে আসছে, আর এখন তাদের সাথে বিশ্বের নানা স্থান থেকে আসা এসব তরুণ-যুবকরা আছে যারা জিহাদে অংশগ্রহণ করে খুশি। 
তাদের রয়েছে ব্রিটিশ, ফরাসি, দক্ষিণ আফ্রিকান, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয়- সবাই, আর তারা মুখোশ ছাড়া। আইএস এখন মুসলিম বিশ্বের প্রকৃত কেন্দ্রবিন্দুতে পেঁৗঁছে গেছে। জাতি সংঘের এক সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী আইএসের সাথে লড়াইয়ে যোগ দিতে ৮০টি দেশের ১৫ হাজার যোদ্ধা ইরাক ও সিরিয়ায় গেছে। 
গত সপ্তাহে প্রচারিত আইএস নেতা আবু বকর আল বাগদাদীর ভিডিও থেকে জানা যায়, মিসর, সিরিয়া, লিবিয়া ও আলজেরিয়ার জিহাদি গ্রুপগুলো তার প্রতি আনুগত্য জ্ঞাপন করেছে। বিশ্বব্যাপী আইএসের তরুণ যোদ্ধা ও সমর্থকদের ভিত্তিতে বোঝা যায় যে, তারা ইসলামী খিলাফতকে বিশ্বের বুক থেকে মুছে ফেলতে দেবে না। 
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের সাবেক সন্ত্রাস দমন উপদেষ্টা  ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের উইল ম্যাককান্টস বলেন, ভিডিওতে আন্তর্জাতিক যোদ্ধাদের প্রদর্শনের অর্থ হতে পারে এটা বোঝানো যে, সারা ইসলামী বিশ্ব বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ঐক্যবদ্ধ। 
নতুন ভিডিওতে জিহাদি জনকে অঙ্গীকার ব্যক্ত করতে শোনা যায় যে, ওবামা যে ৩ হাজারেরও বেশি মার্কিন সৈন্যকে ইরাকে প্রেরণ করেছেন আইএস তাদের আগামীকাল হত্যা করবে। উল্লেখ্য, ভিডিও’র ঐ মুখোশধারী ব্যক্তি ব্রিটিশ যুবক জন কিনা, ব্রিটিশ গোয়েন্দারা তা চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন। ভিডিওতে জিহাদি জন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের ক্রীড়নক ডেভিড ক্যামেরন যেমনটি বলেছেন, সেভাবেই আমরা আপনাদের রাস্তায় আপনাদের লোকদের প্রাণ নেয়া শুরু করব।   
এদিকে, বর্তমানে আইএসের সাথে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিক নাসের  মুছানার পিতা সোমবার বলেন, তিনি ভুল করে আইএসের নতুন ভিডিওতে তার ছেলে আছে বলে মনে করেছিলেন। কার্ডিফের অধিবাসী ৫৭ বছর বয়স্ক সাবেক প্রকৌশলী আহমেদ মুছানা বলেন, ভিডিওতে পিটার কাসিগের মৃত্যুর কথা ঘোষণাকারীকে তার কাছে প্রথমে তার ছেলের মতো মনে হয়েছিল। কিন্তু পরে ছবির দিকে ভালো করে লক্ষ্য করে দেখি যে, না আমার ছেলের সাথে তার চেহারা অনেক পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে ভিডিও’র লোকটির নাক খাড়া, কিন্তু আমার ছেলের নাক বোঁচা। 
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দফতর ভিডিওতে প্রদর্শিত বিদেশি যোদ্ধাদের পরিচয় সম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।

নতুন কমেন্ট যুক্ত করুন