আইএস দমনের নামে ইরাকে আরো মার্কিন সেনা পাঠানোর পাঁয়তারা
আইএস দমনের নামে ইরাকে আরো মার্কিন সেনা পাঠানোর পাঁয়তারা
ইরাকে আরো সেনা পাটানোর পাঁয়তারা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের একজন শীর্ষপর্যায়ের একজন জেনারেল বলেছেন, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জেহাদিদের কাছে হারানো এলাকা পুনরুদ্ধার ও সিরিয়ার সঙ্গে সীমান্ত পুনরায় স্থাপন করতে হলে ইরাকের ৮০ হাজার দক্ষ সেনার প্রয়োজন হবে। মার্কিন কংগ্রেসের এক শুনানিতে জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান সেনা জেনারেল মার্টিন ডিম্পসে বলেন, ইরাকের ৮০ হাজার দক্ষ সেনার প্রয়োজন, যাতে করে মসুল শহরসহ হারানো এলাকা পুনরুদ্ধার করা যাবে এবং সীমান্ত পুনর্বহাল করা সম্ভব হবে। ইরাকে আরো মার্কিন সেনা পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে ডিম্পসে এ কথা বলেন। দেশটির যে বাড়তি সেনা প্রয়োজন তাদের প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য আরো মার্কিন সেনাদের দরকার বলে জানান তিনি।
এদিকে, ইরাকের কৌশলগত বেইজিং শহরটি পুনরুদ্ধার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। শহরটি এখন পুরোপুরি আইএস-মুক্ত বলে তারা ঘোষণা করেছে। দীর্ঘদিন ধরে এ শহরটির একটা বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছিল জেহাদিগোষ্ঠী আইএস। এ শহরের কাছেই ইরাকের সর্ববৃহৎ তেল শোধনাগারটি অবস্থিত। ইরাকের সেনা কর্মকর্তারা বলেছেন, স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর সহযোগিতায় আইএসকে বাইজি শহর থেকে হটিয়ে দেয়া সম্ভব হয়েছে। ইরাকে আইএসআইএলবিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রে একটা বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অবশ্য ইরাকের বেশ কিছু এলাকা এখনো আইএসআইএল নিয়ন্ত্রণ করছে।
অন্য এক খবরে বলা হয়, ব্রিটিশ জিহাদিদের ভিসা যেকোনো সময় জব্দ করার আইন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। একই সঙ্গে বাইরে অবস্থান করা ব্রিটিশ জিহাদিদের দেশেও প্রবেশ করতে দেয়া হবে না বলে জানান তিনি। জি-২০ সম্মেলনে যোগ দিতে অস্ট্রেলিয়া সফররত ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী দেশটির সংসদে দেয়া এক বক্তব্যে একথা বলেন। ক্যামেরন বলেন, আমরা খুব কম সময়ের মধ্যে নতুন সন্ত্রাসবিরোধী আইন পাস করতে যাচ্ছি। আমাদের এ অবস্থান থেকে কিছু বের হয়ে আসার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, নতুন এ আইনে বিমানবন্দরে ভিসা জব্দের ক্ষমতা দেয়া হবে পুলিশকে। তারা যেকোনো সন্দেহভাজনকে আটকাতে পারবে। এছাড়া নিয়ম না মানলে ব্রিটিশ নাগরিকদেরও দেশে আসতে দেয়া হবে না। ধারণা করা হচ্ছে ইসলামিক স্টেট (আইএস) যোদ্ধাদের সঙ্গে জিহাদে যোগ দিয়েছে ব্রিটেনের প্রায় ৫০০ নাগরিক।
প্রায় একই উদ্যোগ নিয়েছে মিসর ও জর্ডান। এ দুটি দেশের মসজিদেও রেহাই দেয়া হচ্ছে না আইএস-সমর্থকদের। জর্ডানের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আহমাদ এজাত জানিয়েছেন, সাম্প্রতিককালে সে দেশের সরকার জিহাদি চেতনার বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মসজিদে নামাজ পড়ানোর নামে কোনো ইমাম জিহাদি চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার মতো কথা বললে সঙ্গে সঙ্গেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে তাকে। তিনি জানান, এ পর্যন্ত ২৫ ইমামের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। বেশ কিছু মসজিদে ভালো বেতনে নতুন ইমামও নিয়োগ করা হয়েছে। আইনজীবী মুসা আবদালাত জানান, জর্ডান, সিরিয়া ও ইরাকে আইএসবিরোধী যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ানোর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৩০ আইএস সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বেশির ভাগই সালাফিস্ট গ্রুপের সদস্য।
মিসরে বিশেষ করে শুক্রবার অর্থাৎ জুমার নামাজের সময় ইমামদের দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। নামাজ পড়তে এসে কেউ ধর্মের নামে অসন্তোষ বা বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করছে কিনা তাও দেখা হচ্ছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী এ পর্যন্ত অন্তত ১৩০০ সালাফিস্ট যুদ্ধ করতে ইরাক ও সিরিয়ায় গেছে। জর্ডান থেকে গেছে প্রায় ৪ হাজার জন।
নতুন কমেন্ট যুক্ত করুন