দায়েশের হুমকির মুখে এখন আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়া: ইরানের হুঁশিয়ারি
দায়েশের হুমকির মুখে এখন আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়া: ইরানের হুঁশিয়ারি
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি গোলাম হোসেন দেহকান গতকাল নিরাপত্তা পরিষদে আফগানিস্তান বিষয়ক বিশেষ বৈঠকে উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের শক্তি বৃদ্ধি বিশেষ করে আফগানিস্তানে তাদের অনুগত সন্ত্রাসীদের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এখনই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে যে কোনো সহযোগিতার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, আজকে যদি আমরা দায়েশ সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা না করি তাহলে আগামীতে কঠিন পরিস্থিতি সবার জন্য অপেক্ষা করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আফগানিস্তানে দায়েশ সন্ত্রাসীদের প্রভাব বিস্তার এবং পশ্চিম এশিয়া থেকে শুরু করে মধ্য এশিয়ায় তাদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার ফলে সমগ্র ওই অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে এবং আরো বহু এলাকায় সন্ত্রাসীদের বিস্তার ঘটবে। এতে করে কাজাখস্তান, কিরিঘিজিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানে নতুন করে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিতে পারে। মধ্য এশিয়ার এ দেশগুলোতে দরিদ্রতা, আর্থিক দুর্নীতি, বেকারত্ব, রাজনৈতিক অঙ্গনে সাধারণ মানুষের উপস্থিতির সুযোগ না থাকা প্রভৃতি কারণে জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে এবং দায়েশ এ পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে। এ ছাড়া, এ অঞ্চলে বিশেষ করে আফগানিস্তানে ন্যাটো ও মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের কারণে দেশটি মারাত্মক নিরাপত্তা সংকটে পড়েছে।
এ অঞ্চলে নিরাপত্তা সংকট ও সন্ত্রাসবাদ বিস্তারের প্রধান কারণ হচ্ছে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সৌদি আরবের সমর্থন। গত কয়েক দশক ধরে আলে সৌদ সরকারের অর্থ ও অস্ত্র সহায়তায় মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের অন্যান্য স্থানে উগ্র গোষ্ঠীগুলোর ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে। নানা কারণে বিভ্রান্ত হয়ে এসব দেশের যুবকরা দায়েশের মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দিকে ঝুঁকে পড়ছে। মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর হাজার হাজার নাগরিক বর্তমানে দায়েশ প্রভাবিত এলাকায় যুদ্ধ করছে। এ অঞ্চলের রাজনীতিতে সৌদি আরব দায়েশের মতো উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করছে। এ অবস্থায় আফগানিস্তান ও মধ্যএশিয়ায় দায়েশ যদি নিজেদের জন্য আলাদা কোনো রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে পারে বা জায়গা করে নিতে পারে তাহলে সমগ্র ওই অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের ভয়াবহ বিস্তার ঘটবে।
এ কারণে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আফগানিস্তানে তৎপর সন্ত্রাসীদের প্রতি যে কোনো সমর্থন ও সহযোগিতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এখনই দায়েশ সন্ত্রাসীদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে না দিলে ভবিষ্যতে কঠিন পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে।
সন্ত্রাসীদের মোকাবেলার ক্ষেত্রে ইরান জাতিসংঘে বেশ কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেছে এবং মাদক নিয়ন্ত্রণসহ আফগানিস্তানে নিরাপত্তা রক্ষায় তেহরান গুরুত্বপূর্ণ বহু পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের মতো সমস্যা মোকাবেলার জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত ও মৌলিক কিছু পদক্ষেপ নেয়া। অনেকের মতে, সামরিক উপায়ে সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করা কিংবা তাদের ধ্বংস করে দেয়ার মাধ্যমে হয়তো সাময়িকভাবে তাদের দমিয়ে রাখা সম্ভব হবে কিন্তু উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ বিস্তারের শেকড় চিহ্নিত করে যদি সেসব উপড়ে ফেলা না যায় তাহলে পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন আসবে না। তখন শুধু আফগানিস্তান নয় বরং বিশ্বের সব জায়গায় অশুভ এ শক্তির ফের উত্থান ঘটবে।
নতুন কমেন্ট যুক্ত করুন