যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম হবে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র!
চীনের সাবমেরিনে এমন কিছু পরমাণু অস্ত্রবাহী ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের চেষ্টা করা হচ্ছে যা দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানা যাবে। শত্রুর সম্ভাব্য হামলার সময় পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চীনের নৌবাহিনী এ প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে।
বুধবার এক প্রতিবেদনে ব্লুমবার্গ নিউজ জানায়, চীনের নৌবাহিনীর জেআইএন শ্রেণীর সাবমেরিনে জেএল-২ শ্রেণীর পরমাণু অস্ত্রবাহী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস-চায়না ইকোনোমিক অ্যান্ড সিকিউরিটি রিভিউ কমিশন গতমাসে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিল, চীনের এসব সাবমেরিন ২০১৪ সালের শেষ নাগাদ সাগরে টহল দিতে পারবে এবং এসব সাবমেরিন চীনকে সাগর-ভিত্তিক পরমাণু শক্তির দিক দিয়ে অত্যন্ত শক্তিশালী করবে।
এছাড়া, মার্কিন কংগ্রেসকে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের শাসনব্যবস্থা দুর্বোধ্য হওয়ার কারণে দেশটির কাছে কি পরিমাণ পরমাণু অস্ত্রবাহী ক্ষেপণাস্ত্র এবং সাবমেরিন রয়েছে সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব নয়।
ইউএস-চায়না ইকোনোমিক অ্যান্ড সিকিউরিটি রিভিউ কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, চীনের কাছে এই মুহূর্তে তিনটি জেআইএন শ্রেণীর সাবমেরিন রয়েছে এবং ২০২০ সাল নাগাদ এই বহরে আরো দু’টি সাবেমেরিন যুক্ত হবে। এসব সাবমেরিনের প্রত্যেকটি ১২টি করে জেএল-২ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে সক্ষম।
চীনের কাছে ৪,৫৯৮ মাইল পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। চীনের উপকূল থেকে নিক্ষেপ করলে এসব ক্ষেপণাস্ত্র আলাস্কায় আঘাত হানতে পারে এবং জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় পানিসীমা থেকে ছোঁড়া হলে আলাস্কার পাশাপাশি হাওয়াই দ্বীপেও আঘাত হানবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র।
কমিশনের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, চীনা সাবমেরিনগুলো হাওয়াই দ্বীপের পূর্বে মোতায়েন করা হলে এগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের প্রত্যেকটিতে আঘাত হানা সম্ভব। চীনা নৌবাহিনীর সমরশক্তির এ খবরে মার্কিন সেনাবাহিনীতে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বলে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে।
নতুন কমেন্ট যুক্ত করুন