ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে আইএইএর মহাপরিচালকের দ্বিমুখী অবস্থান
ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে আইএইএর মহাপরিচালকের দ্বিমুখী অবস্থান
ওয়াশিংটনে মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রোকিংস ইন্সটিটিউশনে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ’র মহাপরিচালক ইউকিয়া আমানোর উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বৈঠকে তিনি ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে কিছু কিছু অস্পষ্টতার কথা উল্লেখ
করে দাবি করেছেনকারণে আইএইএ তার দায়িত্ব পালনে সমস্যায় পড়েছে। আমানো আরো বলেছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা অনন্তকাল চলবে না।
ইউকিয়া আমানো ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে দ্বিমুখী বক্তব্য দিয়ে দাবি করেছেন, সম্পূরক প্রটোকলের মত হাতিয়ারগুলোর মাধ্যমে আমরা ইরানের অঘোষিত পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে আরো তথ্য জানতে পারবো। বিশ্লেষকরা বলছেন তার এ বক্তব্য অবশ্য অপ্রত্যাশিত কিছু নয়। কিন্তু আইএইএ তার সব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে কিনা সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। আইএইএ’র আইন অনুযায়ী যেসব দেশ পরমাণু কর্মসূচি পরিচালনা করে তাদের কর্মকাণ্ডের ওপর এই সংস্থা নজরদারী করবে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দায়িত্ব তাদের পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত তথ্য আইএইএকে অবহিত করবে। সংস্থার নীতিতে আরো বলা হয়েছে, সারা বিশ্ব থেকে পরমাণু অস্ত্র নির্মূলের কাজও এই সংস্থার দায়িত্ব।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পরমাণু অস্ত্র উৎপাদন ও বিস্তার রোধ সংক্রান্ত এনপিটি চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে আইএইএ নিষ্ক্রিয় রয়েছে। এ কারণে পরমাণু অস্ত্রধর দেশগুলো এনপিটি চুক্তির ছয় নম্বর ধারা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে যেখানে পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। যেমন আমেরিকা গত ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ২৭তম পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এ ছাড়া আমেরিকা ১৯৬০ সালে দখলদার ইসরাইলের পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে সর্বাত্মক সাহায্য সহযোগিতা দিয়েছিল যাতে ইসরাইল এ অঞ্চলে তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে। ইসরাইলের কাছে বর্তমানে ৩০০ থেকে ২০০টি পরমাণু বোমা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিপুল অংকের অর্থ ব্যয় করে বিশ্বে পরমাণু অস্ত্র উৎপাদনের পরিমাণ বেড়েছে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে আগামী ১০ বছরের মধ্যে পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য ব্যয়ের পরিমাণ অন্তত এক ট্রিলিয়ন ছাড়িয়ে যেতে পারে। বর্তমানে বিশ্বে অবস্থিত হাজার হাজার পরমাণু বোমা মানব সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউকিয়া আমানো সত্যিকারের পরমাণু হুমকির বিষয়টি উপেক্ষা করায় আইএইএ’র প্রধান হিসেবে তার কর্মকাণ্ড সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। ইরানের ব্যাপারে ইউকিয়া আমানোর আচরণ এবং ইসরাইল ও আমেরিকার চাপের কাছে তিনি নতি স্বীকার করায় তার ব্যাপারে সন্দেহ আরো জোরদার হয়েছে।
মার্কিন লেখক ও গবেষক গ্রেট পোর্টার ছয় বছর ধরে ব্যাপক তদন্তের পর তার এক গ্রন্থে আইএইএকে কীভাবে অপব্যবহার করা হচ্ছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও অন্যান্য বিভাগ আইএইএর ওপর চাপ সৃষ্টি করে এটাই প্রমাণ করার চেষ্টা করছে যে, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে।
অথচ ইরান ঘোষণা করেছে, আন্তর্জাতিক আইন এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে পরমাণু অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তবে ইরান এও বলেছে, শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার তারা রক্ষা করবে।
নতুন কমেন্ট যুক্ত করুন