"ইমাম হোসাইন এর কালজয়ী বিপ্লব এর অনুপ্রেরণা ও ধর্মের বিপ্লবী ভুমিকা"
"ইমাম হোসাইন এর কালজয়ী বিপ্লব এর অনুপ্রেরণা ও ধর্মের বিপ্লবী ভুমিকা"
কখনো কখনো মানুষ দেশ ও জাতির সীমানা পেরিয়ে সমগ্র বিশ্বকে কিছু দিতে চায় । তখন সে শুধু নিজের দেশ কিংবা নিজের জাতিকে নয়, সমগ্র বিশ্বমানবতাকে সেবা করতে অসীম বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখে যায় । এ ধরনের ব্যক্তিত্বকে কেবল তার নিজের জাতিই সম্মান ও শ্রদ্ধা করে না, বিশ্বের সকল মানুষই শ্রদ্ধাভরে স্মরন করে মানবতা তাকে নিয়ে গর্ব করে । অবশ্য এ ধরনের ব্যক্তিত্ব ইতিহাসে কমই খুঁজে পাওয়া যায় । ইমাম হোসাইন ছিলেন এমন এক ধরনের ব্যক্তিত্ব যা সত্য ও ন্যায় আদর্শের প্রতীক যিনি কোন নির্দিষ্ট দেশ বা গোত্র বিশেষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নন বরং প্রাচ্য-পাশ্চ্যত, আরব-অনারব নির্বিশেষে সমগ্র মানবতার জন্য মুক্তির প্রতীক । ইমাম হোসাইনের (আঃ)এর ব্যক্তিত্ব ও কালজয়ী বিপ্লব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উনার কথা, ঘটনাপ্রবাহ , তার বিপ্লবী সত্তা সব কিছুই মানুষকে ন্যায়ের পথে অনুপ্রেরণা দেয় । ইমাম হোসাইন (আঃ) বলেন, “আমি কোন যশ বা ক্ষমতার লোভে কিংবা কোন ফেতনা-ফেসাদ সৃষ্টি করার জন্য বিদ্রোহ করছি না । আমি শুধুমাত্র আমার নানার (মুহম্মাদ [সাঃ] ) উম্মতের মধ্যে সংস্কার করতে চাই । আমি চাই সৎকাজে আদেশ দিতে আর অসৎকাজে নিষেধ করতে [ সুকৃতির প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায়ের মূলোচ্ছেদ ] । আর আমার নানা ও পিতা আলী ইবনে আবিতালিব (আঃ) এর পথ ধরেই চলতে ।’’ আমরা যদি পরিপূর্ণ ইসলামকে বাস্তবে দেখতে চায় তাহলে ইমাম হোসাইন (আঃ) এর এই মহান বিপ্লবের দিকেই তাকাতে হবে । তিনি কারবালার ময়দানে ইসলামের বাস্তব চিত্র এঁকেছেন, সুদক্ষ শিল্পীর মতো তিনি ইসলামকে প্রতিমূর্ত করেছেন । কোন প্রাণহীন ও শুষ্ক প্রতিমূর্তির মতো নয় । তাই এই ঘটনার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করার সাথে সাথেই যে কোন অনুভূতিসম্পন্ন মানুষই নিজের অজ্ঞাতে বলতে বাধ্য হবে যে, এতি কোন আকস্ম্যাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনা নয়, বরং সূক্ষ্ম চিন্তা ও পরিকল্পনামাফিক একটি আদর্শিক ঘটনার অবতারণা করা হয়েছে কারবালায় । মানব সমাজে সংঘটিত অজস্র বিপ্লবের মধ্যে ইমাম হোসাইন (আঃ) বিপ্লবকে পৃথক করার দুটি মাপকাঠি রয়েছে ঃ এক, ইমাম হোসাইন (আঃ) এর বিপ্লবের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিচার করে । অর্থাৎ এই বিপ্লব মনুষ্যত্বকে উন্নত ও উত্তম করতে, মানবতাকে মুক্তি দিতে, একত্ববাদ ন্যায়পরায়ণতাকে রক্ষা করতে এবং জুলুম ও স্বৈরাচারের মূলোৎপাটন করে মজলুমের অধিকার ফিরিয়ে দেবার জন্যই পরিচালিত হয় । জমি- জায়গা বা পদের লোভে কিংবা গোষ্ঠীগত বা জাতিগত বিদ্বেষের কারনে নয় । দুই, এ ধরনের বিপ্লব হয় আলোর বিচ্ছুরণের মতো । চারদিক যখন জুলুম-নিপীড়ন এবং অত্যাচার ও স্বৈরাচারের ঘন অন্ধকারে নিমিজ্জিত ঠিক সেই মুহূর্তে অন্ধকারের বুকে চিরে বারুদের মতো জ্বলে ওঠে এসব বিপ্লব । চরম দুর্দশায় নিমিজ্জিত হয়ে মানুষ যখন দিশেহারা হয়ে পড়ে তখন উজ্জ্বল নক্ষেত্রের মতো মানুষের ভাগ্যাকাশে আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে এবং মানবতাকে মুক্তি দেয় ইমাম হোসাইন (আঃ) এর মতো আদর্শিক বিপ্লব । তাই এটা সুস্পষ্ট যে কারবালার স্মৃতিকে অমর ও চিরজাগ্রুক করে রাখার পেছেনে মূল কারন হোল এটা একটা শিক্ষীনিয় ও অনুকরণীয় ঘটনা যা অনাদিকালের মুক্তিকামী মানুষ শিক্ষা গ্রহন করে উপকৃত হবে । যাহোক ইমাম হোসাইন (আঃ) এর আন্দোলনের সর্বপ্রথম যে কারণটি উপাদান হিসেবে কাজ করেছিল তা যে বাইয়াত প্রসঙ্গই ছিল তাতে কোন দ্বিমত নেই । অর্থাৎ ইয়াজিদের মতো অযোগ্য লোককে স্বীকৃতি দিতে দৃঢ়ভাবে অস্বীকার । দ্বিতীয় উপাদান ছিল কুফাবাসীদের সাহায্যের আশ্বাস যা পরিবর্তিতে কুফাবাসীরা ইমাম হোসাইন (আঃ) এর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে, যদিও ইমাম হোসাইন (আঃ) এর কাছে এই উপাদান খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল না কারন বিশ্বাসঘাতকতা না করে কুফার সব লোকও যদি ইমাম হোসাইন (আঃ) পাশে দাঁড়াতো তবুও শামের বাহিনীর মোকাবেলা করা একেবারে সহজ কথা ছিল না । তৃতীয় উপাদানটি ছিল “ আমর বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার ” অর্থাৎ সৎ কাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ ” ইসলামের এই রোকনটি বাস্তবায়ন করা । প্রথম উপাদান এর প্রসঙ্গে বলা যায় যে ইমাম হোসাইন (আঃ) যখন মদীনায় ছিলেন তখন মুয়াবিয়া স্বীয় পুত্র ইয়াজিদের খেলাফত সুনিশ্চিত করার জন্য মদীনায় এসে ইমামের কাছ থেকে ইয়াজিদের জন্য বাইয়াত চায় । কিন্তু ব্যর্থ হয় । মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পর ইয়াজিদ পুনরায় বাইয়াত নিতে ভয়ানক চাপ সৃষ্টি করে । কিন্তু ইমাম দেখলেন যে, এ বাইয়াত গ্রহণ করার অর্থ কেবল মুয়াবিয়ার অনৈসলামী নীতি ও বিচ্যুতিকে মেনে নেয়া নয়, বরং ইসলাম আরেকটি নতুন বিদ’আত প্রথা রাজতন্ত্রে’রও অনুমদন করা । ভোগ-লালসা, খাত্যির লালসা, পদলোভ, ভয়ভীতি প্রভৃতির ঊর্ধ্বে থেকে তাকওয়াসম্পন্ন মানুষ ইমাম হোসাইন (আঃ) এ প্রেক্ষাপটে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াধর্মী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন । অর্থাৎ নিজের আমিত্ব এবং আত্মস্বার্থ বিলীন করে দিলেন এক আল্লাহ্ এর জন্য ও আল্লাহ্র পথের জন্য । অত্যন্ত দুঃখের ও হতাশার বিষয় এই যে বর্তমান বিেশ্ব মুসলিম নামধারী কিছু ভণ্ড শাসকগণ যারা ইয়াজিদের চরিত্র ধারণ করে আছে যারা আজ নিজেদের ভোগ-লালসা, খাত্যির লালসা, পদলোভ, ভয়ভীতি প্রভৃতির জন্য সাম্রাজ্যবাদীদের অনুগত ও দাসত্ব করে যাচ্ছে আর সমাজে বিকৃত ইসলাম প্রচার করে ও নিজেদের সুবিধা মতো বিকৃত আইন ও সংস্কৃতি অর্থাৎ শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিচারব্যবস্থাকে পাশ্চাত্যকরণ করে ( যা সাম্রাজ্যবাদীদের সাম্রাজ্যবাদ এবং স্বৈরাচারী রাজতন্ত্র কে বৈধতা প্রদান করে ) জনগণকে শোষণ জুলুম নিপীড়ন করে নিজেদের দুনিয়াবি স্বার্থ কায়েম করছে আর ক্ষমতার মোহে আচ্ছন্ন হয়ে আছে । আর সাধারণ জনগণ আজ নিজেদের স্বার্থ কায়েম এর জন্য অর্থাৎ ভোগবিলাস এ মত্ত থেকে শোষণ, অন্যায় এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে ভুলে গেছে । যার জন্য আজ বিশ্বে এত মুসলমান থাকা সত্ত্বেও মুষ্টিমেয় কিছু সাম্রাজ্যবাদীদের হাতে মার খাচ্ছে নিরীহ, নিরপরাধ, মজলুম, অসহায় জনগণ কারন আজ তারা প্রকৃত ইসলামের আদর্শ থেকে সরে গিয়ে সাম্রাজ্যবাদীদের ফাঁদে পা দিয়ে গোষ্ঠীগত হিংসা বিদ্বেষ করছে এবং ভোগবিলাসের জীবনকে বেছে নেয়ার কারনে । নিজেদের স্বার্থ, ভোগবিলাস ও ক্ষমতার মোহে থেকে অর্থাৎ ইয়াজিদের মতো চরিত্রের শাসকগণ জালিমদের সাথে অর্থাৎ সাম্রাজ্যবাদীদের সাথে আপোষকামিতা করে যাচ্ছে যা দেখে ও বুঝেও জ্ঞানপাপীরা নিশ্চুপ রয়েছে নিজেদের সুযোগ সুবিধা আদায়ের জন্য ( আশার কথা এই যে এদের মাঝেও কিছু আদর্শবান জ্ঞানী লোক রয়েছেন যারা মানুষকে সংশোধন ও সচেতন করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন ) আর জনগণ এর মাঝে চিন্তা, বিচার বিশ্লেষণ আন্দোলন প্রতিরোধ নেই কারন তারা আজ ভোগবাদ ও নিজের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত । যার জন্য সন্ত্রাসী যায়নবাদী ইসরাইল সাম্রাজ্যবাদীদের মদদপুষ্টে আজ ফিলিস্তিনের অসহায় নিরীহ জনগণ ও শিশুর এর উপর হামলা অত্যাচার করলেও ভণ্ড মুসলিম শাসকগণসহ, ছাত্র, যুবসমাজ, বুদ্ধিজীবীগণ নিশ্চুপ থাকে ( অধিকাংশ) । দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদীদের কূট কৌশল ও আধিপত্যবাদ বজায় রেখে ও ইয়াজিদের মতো চরিত্র পোষণকারী শাসকগণের সহাতায় মানুষকে দাসত্ব ও অন্ধ অনুগত করে লুট করে নিয়ে যাচ্ছে তেল গ্যাস সম্পদ যা অধিকাংশ জনগণ জানে না বা বুঝতে দেয়া হচ্ছে না এবং সেই সাথে শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিচারব্যবস্থাকে পাশ্চাত্যকরণ করে মানুষকে সত্যিকারের আদর্শ থেকে বিচ্যুত করে বস্তুবাদী জীবনের দিকে উৎসাহ করছে যাতে মানুষ চিন্তাচেতনাবিহীন হয়ে বিপ্লবী আদর্শকে ভুলে যায় অর্থাৎ সত্য পথ কোনটা সেটা যেন ভুলে যায় । তাই ইয়াজিদের চরিত্র পোষণকারী এসব শাসকগণদের ও সাম্রাজ্যবাদীদের চরিত্র আজ চিনতে হবে এবং জ্ঞানসম্পন্ন মানুষদের সচেতন করে তুলতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও আন্দোলন করতে হবে , যেমনটা করছে ইরানের আলেমগণ, হিজবুল্লাহ, হামাস এর মতো ইমাম হোসাইন (আঃ) এর আদর্শ অনুসারীরা যারা ভোগ-লালসা, খাত্যির লালসা, পদলোভ, ভয়ভীতি প্রভৃতির ঊর্ধ্বে থেকে । ইসলাম মানুষকে কেবল আল্লাহ্র সন্মুখেই দায়িত্বশীল করে ক্ষান্ত হয়নি, মানুষের নিজেদের মধ্যেও একজনকে অন্যের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যভার অর্পণ করেছে । “ আমর বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার ” হোল এটাই ঃ হে মানুষ, তুমি কেবল আল্লাহ্র সন্মুখেই দায়িত্বশীল নও, সমাজের সামনেও তোমার দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে । এক্ষেত্রে সমাজে আমাদের কি দায়িত্বশীলতা তা বুঝতে হবে । রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন ; অবশ্যই সৎ কাজের উপদেশ দেবে এবং অসৎ কাজে বাঁধা দান করবে নতুবা অধমরাই তোমাদের কাঁধে চেপে বসবে । এটা যদি পরিত্যাজ্য হয় তাহলে তোমরা দুর্বল হয়ে পড়বে । তখন তোমরা যতই অনুনয় বিনয় কর না কেন তা গ্রাহ্য করা হবে না । পবিত্র কোরআনে আল্লাহ্ বলেন, তোমাদের সেই উম্মত হওয়া চাই যারা সৎ কাজে আদেশ করে এবং অসৎ কাজে বাঁধা দেয় । যে উম্মতের মধ্যে এই গুণ আছে তারাই তো সফলকাম । অন্য এক আয়াতে আল্লাহ্ আরও বলেন, তোমরা আল্লাহ্র রজ্জুকে শক্ত করে ধর এবং দলে দলে বিভক্ত হয়ে যেও না । এ আয়াতে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হতে আহ্বান করা হয়েছে । কারন মুসলমানরা যদি ভিন্ন ভিন্ন ফেরকা নিয়ে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতে লিপ্ত হয় তাহলে এ থেকে সবচেয়ে বেশি ফায়দা লুটবে ইসলামের শত্রুরা । পাশ্চাত্যের ORIENTALIST দের অনেকেই ইসলামকে রীতিমত এই বলে অপবাদ দিয়ে থাকে যে, ইসলাম সম্পূর্ণ একটা ভাগ্যনির্ভর দ্বীন । এতে মানুষের সমস্ত দায়িত্ব ও কর্তব্যকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে এবং মানুষকে বলা হয়েছে ; তোমরা হাত পা গুটিয়ে কেবল আল্লাহ্র উপর ভরসা করে বসে থাক । দেখ আল্লাহ্ কি করে । তারা আরও অপবাদ দেয় যে, ইসলাম মানুষকে কর্মক্ষমতা ও স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করেছে , অর্থাৎ ইসলামে মানুষের কোন কিছু করার নেই। যা কিছু করার সবই আল্লাহ্ করবেন । এ ব্যাপারে মানুষের কোন দায়িত্বও নেই । অথচ এটা স্রেফ একটি অপবাদ । ইসলাম মানুষকে যে স্বাধীনতা ও কর্তৃত্ব দিয়েছে তার দলিল হিসেবে এই ছোট আয়াতই যথেষ্ট , “ আল্লাহ্ কোন জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেরাই তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে অগ্রসর হয় ।” আর যদি কোন সমাজ, কোন জাতি হতভাগ্য, অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে তা তাদের নিজের দোষেই হয়েছে । কোরআন বলছে, “ আমরা কখনোই তাদের উপর জুলুম করিনি বরং তারা নিজেরাই নিজেদের উপর জুলুম করতো । ” পক্ষান্তরে, মুসলমানদের মধ্যেও যারা সবকিছু আল্লাহ্ করবে এই আশায় ( যেমন; তাবলীগ, সূফী, সন্ন্যাসী ) হাত পা গুটিয়ে বসে থাকে এই আয়াতের চপেটাঘাত তাদের মুখেও লাগে । তাদেরকে ধমক দিয়ে এই আয়াতটি বলে, “ অনর্থক বসে থেকো না, আল্লাহ্ অনিবার্যভাবে কোন জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করবেন না । যতক্ষণ না তারা নিজেরাই নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে এগিয়ে আসবে, তাদের যা করার তা ভালভাবে সম্পাদন না করবে, তাদের চরিত্র, মানসিকতা, লক্ষ্য এবং সর্বোপরি তারা নিজেরা শুদ্ধ না হবে ।” সুতরাং সমাজে আমাদের দায়িত্ব তা হোল , “ সমাজে যেখানেই মজলুমের উপর জালিমের অত্যাচার সেখানেই প্রতিরোধ করতে হবে, সেই সাথে সাম্রাজ্যবাদীদের মূলোৎপাটন করে মজলুমের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে । ” এর চেয়ে স্পষ্ট গুরুদায়িত্ব মানুষের আর কি হতে পারে ? তাও আবার একটা সমাজ তথা গোটা মানব জাতির উপর এই দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে । ইমাম হোসাইন (আঃ) বলেন, “ হে মানুষ ! জেনে রেখো যে, জগতে একমাত্র আল্লাহ্ ছাড়া আর কিছু নেই যার কাছে তুমি নিজেকে সোপর্দ করতে পারো । যার কাছে তুমি নিজের আত্মা ও জীবনকে বেঁচে দিতে পারো । তোমরা দুনিয়ার কাছে নিজেকে বেঁচে দিও না, স্বাধীন ও মুক্ত মানুষ হও, দাসত্বের শৃঙ্খলে নিজেকে বেঁধে ফেলো না । ইসলামের অনুসারী হও । একমাত্র আল্লাহ্র ইবাদত কর । তাহলেই পরাধীনতার শৃঙ্খল তোমাকে স্পর্শ করতে পারবে না । একমাত্র আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কেউই উপাসনার যোগ্য নয় । একমাত্র আল্লাহ্কে উপাসনা করো তাহলে দুনিয়া নিজেই তোমাদের পদতলে সমাহিত হবে । ” ইমাম হোসাইন (আঃ) এর আদর্শ থেকে আমাদের এই শিক্ষাটাই গ্রহণ ও অনুকরণ করতে হবে । তাই সমাজে আজ আমাদের দায়িত্ব টা হোল “ আমর বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার ” অর্থাৎ সৎ কাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ ” ইসলামের এই রোকনটি অর্থাৎ ইমাম হোসাইন (আঃ) এর আদর্শকে সমাজে বাস্তবায়ন করে মানব জাতিকে সত্য পথ ও মুক্তির দিকে নিয়ে যেতে হবে । ইমাম হোসাইন (আঃ) এই শহাদাত এবং এই আশুরা বিপ্লব এটাই প্রমাণ করে যে ধর্ম বিশেষ করে ইসলাম সমাজের জন্য আফিম নয় । বরং প্রকৃত ধর্ম সমাজের সমস্ত অন্যায় , অবিচার, জুলুম, নির্যাতন এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করে ।
আশুরা বিপ্লবের অনুসরণে ইরানে ১৯৭৯ সালের যে বিপ্লব সম্পন্ন হয়েছে তার দিকে দৃষ্টিপাত করলে আমরা বুঝতে পারব ধর্ম সাম্রাজ্যবাদ এবং পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিপীড়িত জনতার মুক্তির পথ প্রশস্ত করে । তাই যারা ইয়াজিদের ইসলামের অনুসারী তাদের সাম্রাজ্যবাদী চেতনার উদাহরণ টেনে ধর্মকে সমাজের জন্য আফিম হিসেবে তুলে ধরতে যারা সচেষ্ট তাঁদের প্রতি আমি সরাসরি আহবান জানাই আশুরা বিপ্লবের আদর্শের দিকে বুঝতে পারবেন ইসলামের বিপ্লবী ভূমিকা । আগামীতে ইসলাম কি করে সাম্রাজ্যবাদের মোকাবিলায় তাত্ত্বিক এবং ব্যাবহারিকভাবে কাজ করে তা নিয়ে পোস্ট দেয়ার ইচ্ছা রইল ।
নতুন কমেন্ট যুক্ত করুন