পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন এলইটি থেকে প্রশিক্ষিত ৩ হুজি সদস্য গ্রেপ্তার

পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন এলইটি থেকে প্রশিক্ষিত ৩ হুজি সদস্য গ্রেপ্তার

 

আজিজুর রহমান: পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই তৈয়বা (এলইটি) হরকাতুল জিহাদ (হুজি) বাংলাদেশের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে হুজির পালিয়ে থাকা ও গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গিদের মধ্যে ৯০ শতাংশই এলইটির কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশ ও অন্য দেশে তাদের কর্মতৎপরতা চালাচ্ছে। গতকাল শনিবার রাতে গ্রেপ্তার হওয়া এবং এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া হুজি সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম। আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে তিন হুজি সদস্য গ্রেপ্তারের ঘটনায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি ।
শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে  গোয়েন্দা ও অপরাধতথ্য বিভাগ (দক্ষিণ) এর উপ-পুলিশ কমিশনার জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর এর নির্দেশনায় রাজধানীর পোস্তগোলা ব্রিজ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তিন হুজি সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন- মোঃ আব্দুল্লাহ, মোঃ রিদওয়ান ও শফিকুল ইসলাম ওরফে রিপন। যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, গত ২৫ অক্টোবর হুজি উর্ধ্বতন নেতা ও বোমা বিশেষজ্ঞসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত রফিকের কাছে আব্দুল্লাহর একটি পাসপোর্ট ছিল। ওই পাসপোর্টের সূত্র ধরে ও তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পোস্তগোলা ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃত তিনজনের মধ্যে দুইজন দেশের বাইরে প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর মধ্যে আব্দুল্লাহর পাসপোর্ট দেয়া হয়েছিল পাকিস্তানের ভিসা লাগানোর জন্য। এদিকে রেদওয়ানের পাসপোর্ট অন্য একজনের কাছে দেয়া হয়েছে এবং তার ভিসা হয়েছে বলেও জানা গেছে। তারা অন্য যাদের নাম বলেছে তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
যুগ্ম কমিশনার বলেন, আটককৃত তিনজনের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায়। তারা সবাই কওমি মাদ্রাসায় পড়াশুনা করেছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছে। এদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ও রিদওয়ান পোশাক কারখানাতেও কাজ করেছেন। অপরদিকে সফিকুল হুজির বোমা ও বিস্ফোরক তৈরির ল্যাবে ঝাড়ুদারের কাজ করতো।
গত দুই মাসে বেশ কয়েকজন জঙ্গি সদস্য গ্রেপ্তারের পর দেশে আবারও জঙ্গিদের উত্থান ঘটছে কিনা এ সম্পর্কে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় জঙ্গিবাদী তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈশ্বিক জঙ্গিবাদী কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। ইরাক, সিরিয়াসহ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জঙ্গিবাদের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে বাংলাদেশের ঝিমিয়ে পড়া জঙ্গি সদস্যরা পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।
তবে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী সচেষ্ট থাকায় এ কার্যক্রম ভেঙ্গে পরেছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, জঙ্গিরা যেন আবার পূর্বের মতো উত্থান ঘটাতে না পারে সেজন্য সারাদেশে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সম্প্রতি জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এ কারণে জনমনে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যে নারায়ণগঞ্জ জঙ্গিবাদের অভয়াশ্রম হয়ে উঠছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি বুঝে জঙ্গিরা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে থাকে। সাধারনত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় জঙ্গিরা অবস্থান নিয়ে থাকে। যাতে তাদের সহজে ধরা না যায়।
জঙ্গি সদস্যদের ধরতে পুরস্কার ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। এ ধরণের কাজের ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনও যোগাযোগ রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

নতুন কমেন্ট যুক্ত করুন