ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু আলোচনা শুরু হল
ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু আলোচনা শুরু হল
ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের চতুর্থ দফা পরমাণু আলোচনা আজ থেকে ভিয়েনায় শুরু হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ গতকাল সন্ধ্যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাশ্টোনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বলেছেন, আজকের আলোচনা শুরুর আগে সংলাপের ধরন কেমন হবে সে বিষয়ে আগেই ইতিবাচক ও গঠনমূলক কথাবার্তা হয়েছে।
আজকের আলোচনা শুরুর প্রথমেই ইরান পরমাণু বিষয়ে তার সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে এবং এরপর ছয় জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ পরমাণু বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তির ধারা লেখার জন্য এবারের আলোচনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, পরমাণু চুক্তির খসড়া এমন একটি পর্যায়ে আছে যখনই দুপক্ষ একে অপরের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার ব্যাপারে নিশ্চয়তা লাভ করবে কেবল তখনই চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরমাণু আলোচনাকে অত্যন্ত কঠিন হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, প্রতিপক্ষ যদি সৎ মনোভাব ও বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সংলাপে বসে তাহলে ছয় মাসের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফলে পৌঁছা সম্ভব হবে। ইরান তার পরমাণু অধিকার প্রশ্ন বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না উল্লেখ করে তিনি আবারো বলেছেন, আমরা কখনই পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করিনি কারণ বিশ্বাস করি এ অস্ত্র ইরানের নিরাপত্তার গ্যারান্টি হতে পারে না।
ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু চুক্তির খসড়া তৈরির কাজ পর্যায়ক্রমে এগিয়ে যাচ্ছে। এটি শেষ করতে আরো অন্তত তিনটি বৈঠকের প্রয়োজন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে যাতে বেশি সময় নষ্ট না করে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সব কিছুকে ঠিকঠাক মত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। পরমাণু বৈঠকে ইরানি আলোচক দলের প্রধান টার্গেট হচ্ছে, দ্রুততা ও স্বচ্ছতা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ নিশ্চয়তা দিয়ে বলেছেন, ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু আলোচনায় ইরানের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা বলার কোনো সুযোগ দেয়া হবে না।
বর্তমানে পরমাণু সংক্রান্ত আলোচনায় কারিগরি বিষয়ে কথাবার্তা কিছু বাকি আছে। যেমন ইরান কতটি সেন্ট্রিফিউজ রাখতে পারবে, কত শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে, কতটুকু ইউরেনিয়াম মজুদ রাখতে পারবে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল ইরানের কোন কোন পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শন করতে পারবে ইত্যাদি। এ ছাড়া, কিভাবে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে এবং ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচিকে স্বীকৃতি দেয়া হবে সেসবও আলোচনার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট করা হবে। ভিয়েনায় আলোচনা শুরু করার আগে ইরানের সংসদ সদস্যরাও এ বিষয়টিও ওপর যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করেছেন এবং তারা ইরানের আলোচক দলকে নিজেদের অবস্থানে অটল থাকার জন্য আহবান জানিয়েছেন।
সূত্রঃ রেডিও তেহরান
নতুন কমেন্ট যুক্ত করুন