ভিয়েতনামের গেরিলারা সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারের কাজে সাইকেল ব্যবহার

ভিয়েতনামের গেরিলারা সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারের কাজে সাইকেল ব্যবহার

hussain, mohammad, imam mahdi, সিফফিন, জামালের যুদ্ধ, নারওয়ানের যুদ্ধ, খলিফা, খেলাফত, ইমামত, আলী, সিদ্দীক, ফারুক, মোর্তযা, বদর, ওহদ, খন্দক, খায়বার, বণী Shia, Sunni, Islam, Quran, Karbala, najaf, kufa, mashad, samera, madina, makka, jannatul baqi, kazmain, ali, Fatima, hasan, সাকিফা, বণী সায়াদা, সাহাবী, হিজবুল্লাহ, ইসরাইল, ড্রোন, বিমান, হাসান নাসরুল্লাহ , লেবানন, ইরান,  চীন, মালয়েশিয়া,  স্যাটেলাইট, কুয়ালালামপুর, বেইজিং, ভিয়েতনাম, মার্কিন, গোয়েন্দা, ইরাক, সিরিয়া, মিশর, আল কায়েদা, তাকফিরী, ইখওয়ানুল মুসলেমিন, বাংলাদেশ, ভারত, জিহাদ, ফিলিস্তিন, ইহুদি, গাজা, শহীদ, জিহাদ, ক্ষেপণাস্ত্র, দূতাবাস, সৌদি আরব , কুয়েত, রাশিয়া, ফ্রান্স, ব্রিটেন, আমেরিকা, ভিয়েনা, পরমাণু, বাহারাইন, আফগানিস্থান, থাইল্যান্ড, হজরত ফাতিমা, মার্জিয়া, সিদ্দিকা, মোহাদ্দেসা, বাতুল, উম্মে আবিহা, যাহরা, মুবারেকা, যাকিয়া, তাহেরা, রাযিয়া, জিহাদুন নিকাহ, পোপ, পাদ্রি, বাইতুল মোকাদ্দাস, ওহাবী, সালাফি, মুফতি, ড্রোন,
ভিয়েতনাম যুদ্ধে ফ্রান্সকে পরমাণু বোমা ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিল আমেরিকা। ৬০ বছর আগে ১৯৫৪ সালের এই সপ্তাহে দিয়েন বিয়েন ফু’র যুদ্ধে ভিয়েতনামি বাহিনীর কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় ফরাসি বাহিনী। সে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে ফ্রান্সকে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিল আমেরিকা। তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এজন্য প্যারিসকে দু'টি পরমাণু অস্ত্র সরবরাহেরও প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ জুলিয়ান জ্যাকসনের বরাত দিয়ে বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে নিজেদের উপনিবেশ বজায় রাখার জন্য ১৯৪৬ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ আট বছর ধরে যুদ্ধে ৫৫ হাজার ফরাসি সেনা নিহত হয়েছিল। দিয়েন বিয়েন ফু’র গেরিলা যুদ্ধে ভো নগুয়েন গিয়াপের নেতৃত্বাধীন ভিয়েতনামি গেরিলা যোদ্ধাদের হাতে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ফরাসী বাহিনী ওই অঞ্চল থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়।

১৯৫৩ সালের দিকে ফরাসি সেনাপ্রধান জেনারেল নাভারে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয় থেকে ২৮০ মাইল দুরে দিয়েন বিয়েন ফু’এর উপত্যকায় একটি শক্তিশালী গ্যারিসন মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেন। এই উপত্যকা ঘিরে ঘন জঙ্গল এবং পার্বত্য এলাকা রয়েছে। এই উপত্যকায় একটি বিমান অবতরণ ক্ষেত্র ছিল এবং তার মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা অটুট রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করেছিল ফরাসিরা। এ ছাড়া, তারা উপত্যকার ভেতরের টিলাগুলোতে নিজেদের অবস্থান বজায় রাখতে পারবে বলেও ধারণা করেছিল।

কিন্তু গিয়াপের নেতৃত্বাধীন ভিয়েতনামি গেরিলারা প্রাকৃতিক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে সাঁজোয়া বহরের সমাবেশ ঘটায় ফরাসি অধিকৃত টিলাগুলোর ঠিক উল্টো দিকে। রসদ এবং সামরিক সরঞ্জাম বহনের কাজে ভিয়েতনামের গেরিলারা সাইকেল ব্যবহার করে বিশ্বকে হতবাক করে দেয়। অন্যদিকে গিয়াপের বাহিনীর হঠাৎ গোলাবর্ষণে হতচকিত হয়ে যায় ফরাসি সেনারা। একই সঙ্গে স্থানীয় বাহিনী ফরাসি সেনাদের বিমান অবতরণ ক্ষেত্রটি অচল করে দেয়। ফলে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ফরাসিদের।

ভিয়েতনাম যুদ্ধের এমন শোচনীয় পরিস্থিতিতে সহায়তা করার জন্য আমেরিকার প্রতি আহ্বান জানায় ফ্রান্স। কিন্তু মার্কিন কংগ্রেস সে সময়ে সরাসরি ভিয়েতনাম যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে অস্বীকার করে। এ সময় প্যারিসে তৎকালীন মার্কিন যুদ্ধবাজ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফস্টার ডালাস ফরাসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ডালাস এ বৈঠকে ফরাসি কর্মকর্তাদের বলেন, তোমাদেরকে দু’টো পরমাণু বোমা সরবরাহ করলে কেমন হয়? তার প্রস্তাবে হতচকিত হয়ে গিয়েছিল ফ্রান্স।

৫৬ দিন অবরোধের পর ফরাসি সেনারা শেষ পর্যন্ত ৭ মে ভিয়েতনামের গেরিলাদের কাছে আত্মসর্পন করতে বাধ্য হয়। যুদ্ধে ফ্রান্সের ১,১৪২ জন নিহত, ১,৬০৬ জন নিখোঁজ এবং ৪,৫০০ জন আহত হয়েছিল। ভিয়েতনামিদের হতাহতের সংখ্যা ২২ হাজারে গিয়ে ঠেকেছিল।

অবশ্য পরবর্তীতে অনেকেই দাবি করেছেন, প্রকৃতপক্ষে পরমাণু বোমা সরবরাহের প্রস্তাব দেননি ডালাস। অনুবাদকের ভুলের কারণে এমনটি ঘটে থাকতে পারে বলে তাদের দাবি। তবে দলিল-প্রমাণ থেকে জানা যায়, ১৯৫৪ সাল থেকেই ফ্রান্স পরমাণু বোমা তৈরির তৎপরতা শুরু করে। আর পরবর্তীতে ভিয়েতনামে যুদ্ধে আমেরিকা নিজেই জড়িয়ে পড়ে এবং ফরাসিদের মতই শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।
সূত্রঃ রেডিও তেহরান

 

নতুন কমেন্ট যুক্ত করুন