টিটিপির শর্ত ও আলোচনার ভবিষ্যত: পাকিস্তানে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ
টিটিপির শর্ত ও আলোচনার ভবিষ্যত: পাকিস্তানে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ
পাকিস্তানের নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠী তেহরিকে তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) সরকারের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর না বাড়ানোর ঘোষণা দেয়ায় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির ব্যাপারে সংশয় ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি তালেবান আলোচক দলের সদস্য মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেছেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনায় তালেবানের প্রধান দাবি হচ্ছে, এ গোষ্ঠীর বেসামরিক বন্দিদের মুক্তি। তিনি বলেছেন, সরকার এ দাবি মেনে নিলে তালেবান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তালেবান কথিত যেসব বেসামরিক ব্যক্তির মুক্তি চায় তারা উপজাতি অধ্যুষিত উত্তর ও দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের স্থানীয় অধিবাসী হতে পারেন। তালেবানকে আশ্রয় ও সহযোগিতা দেয়ার অভিযোগে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী তাদেরকে আটক করেছে। এ ছাড়া, তাদের মধ্যে তালেবান জঙ্গিদের পরিবারের সদস্যরাও থাকতে পারে। জঙ্গি গোষ্ঠীটির ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য তাদেরকে আটক করে থাকতে পারে নিরাপত্তা বাহিনী।
কিন্তু যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য এসব ব্যক্তিকে মুক্তি দেয়ার বিষয়টিকে কেন তালেবান একমাত্র শর্ত হিসেবে উত্থাপন করেছে তা বিশ্লেষণের দাবি রাখে। কারণ, তালেবান নিজেই বোমা হামলাসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে পাকিস্তানের হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে। কাজেই তাদের কাছে কথিত বেসামরিক মানুষের জীবনের বিশেষ কোনো মূল্য থাকার কথা নয়। কিন্তু নিজেদের বেসামরিক ব্যক্তিদের মুক্তি চেয়ে তারা প্রমাণ করেছে, দেশের অন্য দশজন বেসামরিক ব্যক্তির চেয়ে নিজেদের সমর্থক বেসামরিক ব্যক্তিদের মূল্য তালেবানের কাছে অনেক বেশি। সেইসঙ্গে নিজের সন্ত্রাসী চেহারা সাময়িকভাবে লুকিয়ে রেখে তালেবান একথা প্রমাণ করার চেষ্টা করছে যে, বেসামরিক মানুষের জীবন তাদের কাছে অনেক মূল্যবান; যদিও বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।
তালেবান আলোচক দলের সদস্য মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, পাকিস্তান সরকার তালেবানের বেসামরিক লোকদের আটক রেখে এ গোষ্ঠীর সঙ্গে নির্মম আচরণ করছে। তিনি দাবি করেন, সরকার যদি এসব ব্যক্তিকে মুক্তি দিয়ে সদিচ্ছার পরিচয় দেয় তাহলে তালেবান দেশটির সহিংসতা বন্ধের ব্যাপারে একটি কার্যকর উপায় খুঁজে বের করবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় তালেবান তাদের কমান্ডারদেরও মুক্তি দাবি করেছে। অবশ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর শর্ত হিসেবে এ বিষয়টিকে উত্থাপন করেনি তারা।
এদিকে পাকিস্তানের সেনা গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র সহযোগিতায় দেশটির পুলিশ এক তদন্ত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পাকিস্তানের দেওবন্দপন্থী মাদ্রাসাগুলো জঙ্গিগোষ্ঠী তালেবানকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর সরকারের সঙ্গে সংলাপের ক্ষেত্রে তালেবান নিজের সুর নরম করেছে। তারা বেসামরিক ব্যক্তিদের মুক্তি দেয়ার মতো এমন একটি শর্ত দিয়েছে যা পালন করা সরকারের জন্য তুলনামুলক সহজ। কাজেই, তালেবানের বেসামরিক সদস্যদের মুক্তি দিয়ে সরকার অচিরেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবে বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সূত্রঃ রেডিও তেহরান
নতুন কমেন্ট যুক্ত করুন