অস্ত্র সমর্পনের বিনিময়ে সাধারণ ক্ষমা পাবে রুশ-পন্থীরা
অস্ত্র সমর্পনের বিনিময়ে সাধারণ ক্ষমা পাবে রুশ-পন্থীরা
অস্ত্র সমর্পন করবে সরকারি ভবন দখল করে থাকা এসব রুশ-পন্থী সশস্ত্র ব্যক্তি
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, জেনেভা বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা ইউক্রেন সংকট নিরসনের লক্ষ্যে একটি সমঝোতায় উপনীত হয়েছে।
ইউক্রেন সংকট নিয়ে রাশিয়া, আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউক্রেনের কূটনীতিকদের মধ্যে চতুর্পক্ষীয় বৈঠকের পর এ খবর দেন ল্যাভরভ। তিনি বলেন, জেনেভা স্টেটমেন্ট অব এপ্রিল ১৭ নামে আমরা একটি দলিল অনুমোদন করেছি যেখানে তাৎক্ষণিকভাবে উত্তেজনা কমানোর পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হয়েছে।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইউক্রেনে একটি জাতীয় সংলাপ আয়োজন করতে সব পক্ষ সম্মত হয়েছে। ওই সংলাপে দেশটির সব নাগরিকের অধিকারকে সম্মান জানানো হবে। এ সমঝোতায় রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি, ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্দ্রি দেশচিত্সিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ক্যাথেরিন অ্যাশ্টোন সই করেছেন।
ল্যাভরভ জানান, চুক্তি অনুযায়ী সব অবৈধ অস্ত্রধারীকে নিরস্ত্র হতে হবে এবং দখল হয়ে যাওয়া সব ভবন বৈধ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। ইউক্রেনের দখল হয়ে যাওয়া সব শহরের সড়ক, স্কয়ার ও অন্যান্য জায়গাকে মুক্ত করে দিতে হবে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি ছাড়া অন্য সব বিক্ষোভকারীর প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হবে।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী একইসঙ্গে ইউক্রেনে তার দেশের নাগরিকদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানান। একইসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর কোনো ইচ্ছা তার দেশের নেই কারণ এ বিষয়টি রাশিয়ার মৌলিক স্বার্থের পরিপন্থী।
তিনি বলেন, “বন্ধু রাষ্ট্র ইউক্রেনে সৈন্য পাঠানোর কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই। সেখানে আমাদের বন্ধুরা বসবাস করে এবং এটি রুশ ফেডারেশনের মৌলিক স্বার্থ বিরোধী।”
ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রজাতন্ত্র ক্রিমিয়া দেশটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রাশিয়ায় যোগ দেয়ার পর সেদেশের পূর্বাঞ্চলীয় অন্যান্য প্রজাতন্ত্রের রুশ-পন্থী নাগরিকরাও ব্যাপক আন্দোলন শুরু করেন। তাদের মধ্যে বহু সশস্ত্র ব্যক্তি ইউক্রেনের বহু সরকারি ভবন ও থানা দখল করে নিয়েছেন। রুশ-পন্থী এসব ব্যক্তির প্রতি রাশিয়ার সমর্থন রয়েছে বলে পশ্চিমা দেশগুলো অভিযোগ করে আসছিল। কিন্তু জেনেভা সমঝোতায় সশস্ত্র ব্যক্তিদেরকে দখল করা ভবন ও এলাকা ছেড়ে দেয়ার যে কথা বলা হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে, রাশিয়া আপাতত ক্রিমিয়াকে নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে চায়।
সূত্রঃ রেডিও তেহরান
নতুন কমেন্ট যুক্ত করুন