ইরানি রাষ্ট্রদূতকে ভিসা দেবে না আমেরিকা
ইরানি রাষ্ট্রদূতকে ভিসা দেবে না আমেরিকা
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জেন সাকি
মার্কিন সরকার তার গোয়ার্তুমি অব্যাহত রেখে বলেছে, জাতিসংঘে নবনিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত হামিদ আবুতালেবিকে ভিসা দেয়া হবে না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জেন সাকি মঙ্গলবার বলেছেন, “১৯৭৯ সালের ঘটনাবলীতে তার (হামিদ আবুতালেবির) ভূমিকা থাকার কারণে তাকে ভিসা দেয়া সম্ভব নয়।” এর আগে হোয়াইট হাউজ ইরানি রাষ্ট্রদূতকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতির কথা জানিয়েছিল।
সম্প্রতি জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে হামিদ আবুতালেবিকে নিয়োগ দেয়ার পর তিনি যাতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে না পারেন সেজন্য মার্কিন সিনেট একটি বিল পাস করে। এরপর গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের আবাসিক দপ্তর হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে জানায়, আবুতালেবিকে আমেরিকায় স্বাগত জানানো হবে না।
মার্কিন সিনেট অভিযোগ করছে, ১৯৭৯ সালে গুপ্তচরবৃত্তির আখড়া হিসেবে পরিচিত তেহরানস্থ তৎকালীন মার্কিন দূতাবাস দখলের ঘটনায় আবুতালেবি জড়িত ছিলেন। ইসলামি বিপ্লব বিজয়ের পর ১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ছাত্র মার্কিন দূতাবাস দখল করেন। আগে থেকেই তারা ধারণা করেছিলেন, দূতাবাসটি ইরানের ইসলামি সরকারের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির আস্তানায় পরিণত হয়েছে। দূতাবাস দখলের পর সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া কাগজপত্রে ইরানি ছাত্রদের সে ধারণা সঠিক প্রমাণিত হয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ মার্কিন সরকারের এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেছে, আবুতালেবি হচ্ছেন এমন একজন অভিজ্ঞ কূটনীতিক যিনি এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশে ইরানি রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন। জারিফ বলেন, ইরান বহুদিন ধরে বলে আসছে, মার্কিন সরকার দেশটিতে জাতিসংঘের সদর দপ্তর অবস্থিত বলে বিশ্বের ওপর মোড়লিপনা করছে। ইরানি রাষ্ট্রদূতকে ভিসা না দেয়ার ঘটনা তেহরানের সে অভিযোগ আবার সত্য প্রমাণ করল।
এ ছাড়া, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারজিয়ে আফখাম এর আগে বলেছেন, যোগ্যতার ভিত্তিতেই জাতিসংঘে ইরানের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে আবুতালেবিকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জাতিসংঘে নিয়োগ দেয়া কোনো রাষ্ট্রদূতকে নিজের অভ্যন্তরীণ আইনের আওতায় আনার কোনো অধিকার মার্কিন সরকারের নেই।
সূত্রঃ রেডিও তেহরান
নতুন কমেন্ট যুক্ত করুন